দেশের পুঁজিবাজারে তিন মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ সময়ে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে গত তিন মাসে শেয়ারধারী বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্টের (বিও হিসাব) সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৯৯৭টি। অন্যদিকে এ সময়ে শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা কমেছে ১৬ হাজার ৮৯৭টি।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছরের ২৮ মে পুঁজিবাজারে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৩২ হাজার ১১৩। সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯ হাজার ১১৬টিতে। ২৮ মে শেয়ার না থাকা বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭১। ২৯ আগস্ট তা কমে ৩ লাখ ৭২ হাজার ১৭৪টিতে দাঁড়ায়।
শেয়ারধারী ও শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের পাশাপাশি গত তিন মাসে পুঁজিবাজারে মোট বিও হিসাবের সংখ্যাও কমেছে। এ বছরের ২৮ মে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৩৩। ২৯ আগস্ট তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ৮০১টিতে। ২৮ মে পুরুষ বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৭, যা ২৯ আগস্ট ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৬৪টিতে দাঁড়িয়েছে। সে হিসাবে গত তিন মাসে পুরুষ বিও হিসাবধারীর সংখ্যা কমেছে ৩১ হাজার ৮১৩। অন্যদিকে এ সময়ে নারী বিও হিসাবধারীর সংখ্যা কমেছে ১২ হাজার ১৭১টি। এ বছরের ২৮ মে শেষে পুঁজিবাজারে নারী বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪ হাজার ২৭৮, যা ২৯ আগস্ট শেষে ৩ লাখ ৯২ হাজার ১০৭টিতে দাঁড়িয়েছে।
এ বছরের ২৯ আগস্ট ব্যক্তিগত বিও হিসাবধারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৬-তে, যা ২৮ মে ছিল ১২ লাখ ৮ হাজার ৬০৬টি। তিন মাসের ব্যবধানে ব্যক্তিগত বিও হিসাব কমেছে ২৬ হাজার ৬২০টি। ২৯ আগস্ট যৌথ বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ২৮৫-তে, যা ২৮ মে ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৯টি। এ সময়ে যৌথ বিও হিসাবের সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ৩৬৪টি।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে কিছু বিনিয়োগকারীর মধ্যে শেয়ার বিক্রি কমে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। এ কারণে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি এ সময় শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা কমে আসার মানে হচ্ছে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকা বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ আবার নতুন করে বিনিয়োগ করছেন।
এ বছরের ২৮ মের পর থেকেই দেশের পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী। সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৪ হাজার ৬১৫ পয়েন্ট। সর্বশেষ ২৮ আগস্ট সূচকটি ৫ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তিন মাসে ডিএসইএক্স বেড়েছে ৯০৩ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি এ সময়ে পুঁজিবাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।